বাংলাদেশ শস্য শ্যামলা হবার কারণ

বাংলাদেশ শস্য শ্যামলা চির সবুজ প্রকৃতির একটি অন্যন্য দেশ। যে দেশে বৃষ্টিপাতের ফলে বছরের প্রায় ৫/৬ মাস পানির সরবরাহ থাকায় গাছপালা লতাপাতা সবই থাকে সবুজ। কিন্তু কথা হলো বাংলাদেশের এমন অবস্থার কারণ কি? এ সম্পর্কে আলোচনা ও গবেষণা করলে দেখা যায় বাংলাদেশ হলো ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুর দেশ যার অবস্থান ২০-৩০ অক্ষাংশের মধ্যে। এ স্থানটি বেশি শীতও নয় আবার বেশি গরমও নয় কিন্তু এর দক্ষিণ দিক খোলা এবং সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু আসায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায় গ্রীষ্মকাল ও বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে মৌসুমী বায়ু এসে দক্ষিণ পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর প্রান্তের পর্বত গাত্রের মধ্যে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রচুর পরিমাণে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত (Orographic Rainfall)) হয়ে থাকে। এ বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এতই ব্যাপক হয় যে এর ফলে এখানে বর্ষাকাল (Rainy season) সৃষ্টি হয় যার প্রভাবে নদী নালা খালবিল পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে শস্য ভূমিতে, জমিতে, ঘরবাড়ি পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি করে বন্যা। আর বন্যার ফলে উপরের দেশ থেকে পাহাড় বা উঁচু ভূমি ক্ষয় করে আনিত মাটি আমাদের নদ-নদী, খাল বিল, ঝিল জমিতে শস্য ক্ষেত্রে পড়ে শস্য জমিকে করে অত্যন্ত উর্বর ও পলিময়। এসকল উর্বর ভূমি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হয়।

বর্ষাকালে প্রচুুর বৃষ্টিপাতের ফলে গাছপালা সবসময় প্রচুর পানি পায় এজন্য হয় শস্য শ্যামলা। বর্ষা শেষে রবি মৌসুমে সে সময় জমি সিক্ত থাকার কারণে প্রচুর পরিমাণে হিউমাস থাকে তাই সে সময়ও শস্য পানি পায়। এর পর শীতকালও এ দেশে তেমন শীত অনুভূত হয় না, বরফ পড়ে না, মরুভূমি হয় না তাই সে সময়ও সবুজ শস্যে মাঠ ভরা থাকে। এ জন্য বছরের সবসময়ই এ দেশকে দেখা যায় শস্য শ্যামলা চির সবুজ দেশ। আর বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম উর্বর পলিমা কৃষিভিত্তিক শস্য শ্যামলা সবুজ দেশ। কিন্তু এ দেশের উত্তরে যদি হিমালয় পর্বত দেয়ালের মত না থাকত তবে এ দেশে শীতকালে প্রচুর পরিমাণে বরফ পড়ত, দেশের ভূ-প্রকৃতি হত মরুময়। একইভাবে পূর্ব পাশের আরাকান ইয়োমা পর্বতের অংশ বিশেষের বাংলাদেশের পূর্ব পার্শ্ব জুড়ে অবস্থানের কারণে এ দেশে হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত। আর এ দেশের ভূভাগ নিচু হবার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নদ-নদীর পানি এখান দিয়ে নিমে গিয়ে পড়ে সাগরে যার জন্য কৃষি সেচসহ কোথাও কোন পানির অপ্রতুলতা দেখা যায় না।

এস. এম. আলমগীর হোসেন,
সহকারী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
বিক্রমপুর আদর্শ ডিগ্রী কলেজ, সিরাজদিখান, মুন্সীগঞ্জ-১৫৪০।

Leave a Reply