অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মামলার ঘটনা মিথ্যা ॥ গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ জানিয়ে প্রশাসনের মতবিনিময়
মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সিগঞ্জ থেকে: আড়িয়াল বিলের মানুষ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রশাসনের নানা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শঙ্কা অনেক কেটে গেলেও এখনও সহজ সরল মানুষকে একটি স্বার্থানেষী মহল নানাভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছে। নিজেদের স্বার্থ হাছিলেই এমনটি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে গ্রামবাসীকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং সুশান প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য প্রশাসন আহ্বান জানিয়েছে। সকলের স্বার্থে কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সে ব্যাপারও সকলকে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। আড়িয়াল বিলের ঘটনায় কোন মামলাতেই আসামী নন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এটি স্রেফ গুজব জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম। পুলিশ কোন গ্রামেই অভিযান চালাচ্ছে না, কিন্তু প্রতি নিয়ত মাইকে পুলিশের অভিযানে কথা বলে গ্রামবাসীদের ঘুম হারাম করে দেয়া হচ্ছে। এদিকে আড়িয়াল বিলের উপকণ্ঠের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সাথে গতকাল শনিবার কথা বলে জানা যায়, তারা আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। হাট বাজারে যাচ্ছেন, কাজকর্মও স্বাভাবিক চলছে। এলাকার দোকানপাট খোলা হচ্ছে নিয়মিত। তবে মসজিদের মাইকে এখনও নানা সর্তক কথা শোনা যায়। চেক পোস্টের পাহাড়া বন্ধ হয়নি।
মতবিনিময়
আড়িয়াল বিলের উপকণ্ঠের গ্রামবাসীদের দিয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছে গতকাল শনিবার। বেলা ১১টায় শ্রীনগর উপজেলা অডিটরিয়ামে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা ধরে এতে বেশ কয়েক গ্রামবাসীদের নিয়ে খোলা মেলা আলোচনা হয়। গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক নিরসন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা নিয়ে প্রশাসন ও গ্রামবাসী বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। শ্রীনগরের ইউএনও আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী প্রমুখ।
প্রধান অতিথি বলেছেন, সাধারণ গ্রামবাসীদের কোন রকমের হয়রানি করা হবে না। গুজবে কান না দিয়ে যে কোন বিষয়ে আমাকে ডিসি, এসপি বা প্রশনের যে কাউকে সরাসরি ফোন করবেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারও একই বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করে গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা শান্তি শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপন করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে সহায়তা করবেন।
গ্রামবাসীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী, মদনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারেক, আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ত বাবু, মদনখালী শীবরামপুরের ইউপি সদস্য আলী আকবর আন্টু, বাড়ৈখালীর সেন্টু মেম্বার, শ্যামসিদ্ধির ইসমাইল ঢালী, হাসাড়া ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম, ষোলঘর গ্রামের সাত্তার মাস্টার ও মো.টগর প্রমুখ সহ কয়েক মসজিদের ইমাম এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। গ্রামবাসীরা তাদের আতঙ্কের এবং ভিতিকর নানা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পুলিশ আসছে ,গ্রামের সব মানুষকে ধরে নিয়ে যাবে, মারপিট করবে এমন ভয়ে আমরা ছিলাম। এলাকার মসজিদের মাইকেও বিভিন্ন সময় সর্তক বাণী ছড়ানো হয়। তবে প্রশাসনের এই মতবিনিময়ের পর তাদের ভয় কেটে গেছে বলে বক্তব্যে নেতৃস্থানীয়রা জানান।
খালেদা জিয়ার মামলার নথি থানায় পড়ে আছে
মুন্সিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসানাতের আদালত থেকে থানায় এফআইআর গ্রহনের জন্য পাঠানো মামলাটি নিয়মিত মামলায় রুজু হয়নি গতকাল শনিবারও। পাঁচ দিন ধরে এটি থানায় পড়ে আছে। শনিবার সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মতে, মামলাটি গ্রহন না ব্যাপারে আদালতে এখনও এই বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা পাঠায়নি পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.সাইফুল ইসলাম শনিবার রাতে জানান, ফৌজাদী কার্যবিধি অনুযায়ী মামলাটি গ্রহনের সুযোগ নেই। তাই জিডি করে এটি আগে পুলিশের দায়ের করা মূল মামলার সঙ্গে টেক করা হয়েছে। আলাদা কোন মামলা হবে না।
তদন্ত হবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সঠিক কীনা। পুলিশ খতিয়ে দেখছে আড়িয়াল বিলবাসীর আন্দোলনের পেছনে তাঁর সংশ্লিষ্টতা।
আড়িয়াল বিলের সহিংস ঘটনার পরের দিন গত ১ ফেব্রুয়ারি শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন বেগম খালেদা জিয়াকে ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে ৩ হাজার লোককে আসামী করে মুন্সিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি নিয়মিত মামলায় রুজু করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শ্রীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সেদিনই রাতে এই নথি থানায় পৌছে। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু না হলেও তাঁর মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে হরতাল ঘোষণাসহ পালন করা হচ্ছে নানা কর্মসূচী।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মামলার ঘটনা গুজব!
আড়িয়াল বিলের ঘটনায় কোন মামলাতেই আসামী নন বিশিষ্ট শিক্ষাবীদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তবে বাড়ৈখালী এলাকার এক গ্রাম্য ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম এজাহারভুক্ত আসামী হিসেবে রয়েছেন। শ্রীনগর থানায় পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও পুলিশের উপর হামলা ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক তিনটি মামলার কোনটিতেই তাঁকে এজাহার ভুক্ত আসামী করা হয়নি বলে মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় নিশ্চিত করে বলেন, এটি গুজব, মিথ্যাচার। গতকাল শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র এএসপি দেওয়ান লালন আহমেদ ও শ্রীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেনও একই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একজন দেশ বরণ্যে ব্যক্তির ব্যাপারে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া দুঃখজনক, এতে সমস্যা আরও জটিল করে দেয়। শ্রীনগর থানার ওসির বরাত দিয়ে জাতীয় কয়েকটি দৈনিকে অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আড়িয়াল বিলের ঘটনায় মামলার আসামী হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ পরিবশেন করার ঘটনায় মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সমালোচনা চলে।
ওসি জানান, আমি এ বিষয়ে কোন দৈনিক পত্রিকায় এমন কোন তথ্য কাউকে দেয়নি। দায়েরকৃত মামলায় আড়িয়াল বিল এলাকার বাড়ৈখালী গ্রামের এক গ্রাম্য ডাক্তার নাম ডা. সিরাজুল ইসলাম শ্রীনগর থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামী।
বিক্রমপুর সংবাদ
—————————————
আড়িয়ল বিল: আতঙ্ক নিরসনে মতবিনিময় সভা
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা করে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানি করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন সাংসদ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ।
শনিবার শ্রীনগর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় এই সাংসদ বলেন, “আপনাদের কোনো হয়রানি করা হবে না। আপনারা গুজবে কান না দিয়ে যে কোনো বিষয় আমাকে অথবা ডিসি, এসপি বা প্রশাসনের কাউকে সরাসরি ফোন করে জানাবেন।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্ক নিরসনে উপজেলা প্রশাসন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী এ সভায় আড়িয়ল বিলের আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।
আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের বিরোধিতা করে আড়িয়ল বিল রক্ষা কমিটির ডাকে গত ৩১ জানুয়ারি শ্রীনগর বাজারে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সড়ক অবরোধ করে জনতা। পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে শুরু হয় সংঘর্ষ। দিনব্যাপী সহিংসতায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন।
ওই ঘটনায় ২১ হাজার লোককে আসামি করে চারটি মামলা দায়ের হয়। গ্রেপ্তার আতঙ্কে এলাকা ছাড়েন কোনো কোনো গ্রামের বাসিন্দারা।
মতবিনিময় সভায় কয়েকজন গ্রামবাসী তাদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন- বিক্ষোভ-সহিংসতার পর পুলিশ এসে ধরপাকড়-মারপিট করতে পারে বলে আশঙ্কা করছিলেন তারা। স্থানীয় মসজিদের মাইকেও বিভিন্ন সময় এ ব্যাপারে সতর্ক করে ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. আজিজুল আলম এ ব্যাপারে তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আপনারা শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপন করুন, আমরা আপনাদের পাশে আছি।”
একই আহ্বান জানিয়ে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনারা প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের সহায়তা করুন।”
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক সংবাদ সম্মেলনে আড়িয়ল বিলে বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের কথা জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হবে ‘পদ্মার ওপারে’।
শ্রীনগর উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে এই মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী, বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইউসুফ আলী, মদনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারেক, আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ত বাবু, মদনখালী শীবরামপুরের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলী আকবর আন্টু, বড়ৈখালীর সেন্টু মেম্বার, শ্যামসিদ্ধির ইসমাইল ঢালী, হাঁসাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সুফিয়া বেগম ও ষোলঘর গ্রামের সাত্তার মাস্টার, মো. টগর।
বিডি নিউজ 24
————————————————-
আড়িয়াল বিলে গুজব ছড়াচ্ছে কারা, কেন মাইকে সতর্কবাণী!
গ্রাম্য ডাক্তার সিরাজুল ইসলামকে বানানো হচ্ছে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ আড়িয়াল বিলের মানুষকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের নানা চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। শঙ্কা অনেক কেটে গেলেও এখনও সহজ সরল মানুষকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নানাভাবে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিলেই এমনটি করা হচ্ছে। তবে গ্রামবাসীকে গুজবে কান না দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য প্রশাসন আহ্বান জানিয়েছে। সকলের স্বার্থে কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সে ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। আড়িয়াল বিলের ঘটনায় কোন মামলাতেই আসামি নন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এটি স্রেফ গুজব জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। পুলিশ কোন গ্রামেই অভিযান চালাচ্ছে না, কিন্তু প্রতিনিয়ত মাইকে পুলিশের অভিযানের কথা বলে গ্রামবাসীদের ঘুম হারাম করে দেয়া হচ্ছে। এদিকে আড়িয়াল বিলের উপকণ্ঠের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে শনিবার কথা বলে জানা যায়, তারা আগের চেয়ে অনেক ভাল আছেন। হাটবাজারে যাচ্ছেন, কাজকর্মও স্বাভাবিক চলছে। এলাকার দোকানপাট খোলা হচ্ছে নিয়মিত। তবে মসজিদের মাইকে এখনও নানা সর্তক কথা শোনা যায়। চেকপোস্টের পাহারা বন্ধ হয়নি।
মতবিনিময় ॥ আড়িয়াল বিলের উপকণ্ঠের গ্রামবাসীদের দিয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছে শনিবার। বেলা ১১টায় শ্রীনগর উপজেলা অডিটরিয়ামে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৩ ঘণ্ট ধরে এতে বেশ কয়েক গ্রামবাসীকে নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক নিরসন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা নিয়ে প্রশাসন ও গ্রামবাসী বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। শ্রীনগরের ইউএনও আব্দুল লতিফ মোলস্নার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুল আলম, পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ঢালী।
প্রধান অতিথি বলেছেন, সাধারণ গ্রামবাসীদের কোনরকমের হয়রানি করা হবে না। গুজবে কান না দিয়ে যে কোন বিষয়ে আমাকে, ডিসি, এসপি বা প্রশনের যে কাউকে সরাসরি ফোন করবেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারও একই বিষয়ের ওপর গুরম্নত্বারোপ করে গ্রামবাসীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা শানত্মিশৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করম্নন, আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনারা প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারে সহায়তা করবেন।
গ্রামবাসীর মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাড়ৈখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী, মদনখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারেক, আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়ত বাবু, মদনখালী শীবরামপুরের ইউপি সদস্য আলী আকবর আন্টু, বাড়ৈখালীর সেন্টু মেম্বার, শ্যামসিদ্ধির ইসমাইল ঢালী, হাসাড়া ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগম, ষোলঘর গ্রামের সাত্তার মাস্টার ও মোঃ টগরসহ কয়েক মসজিদের ইমাম এবং এলাকার গণ্যমান্য বক্তিবর্গ। গ্রামবাসীরা তাদের আতঙ্কের এবং ভীতিকর নানা অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, পুলিশ আসছে, গ্রামের সব মানুষকে ধরে নিয়ে যাবে, মারপিট করবে এমন ভয়ে আমরা ছিলাম। এলাকার মসজিদের মাইকেও বিভিন্ন সময় সর্তকবাণী ছড়ানো হয়। তবে প্রশাসনের এই মতবিনিময়ের পর তাদের ভয় কেটে গেছে বলে বক্তব্যে নেতৃস্থানীয়া জানান।
খালেদা জিয়ার মামলার নথি থানায় পড়ে আছে ॥ মুন্সীগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসানাতের আদালত থেকে থানায় এফআইআর গ্রহণের জন্য পাঠানো মামলাটি নিয়মিত মামলায় রম্নজু হয়নি শনিবারও। পাঁচদিন ধরে এটি থানায় পড়ে আছে। শনিবার সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, মামলাটি গ্রহণ না করার ব্যাপারে আদালতে এখনও কোন ব্যাখ্যা পাঠায়নি পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম শনিবার রাতে জানান, ফৌজাদারি কার্যবিধি অনুযায়ী মামলাটি গ্রহণের সুযোগ নেই। তাই জিডি করে এটি আগে পুলিশের দায়ের করা মূল মামলার সঙ্গে টেক করা হয়েছে। আলাদা কোন মামলা হবে না।
তদনত্ম হবে খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে আনীত অভিযোগের সঠিক কিনা। পুলিশ খতিয়ে দেখছে আড়িয়াল বিলবাসীর আন্দোলনের পেছনে তাঁর সংশিস্নষ্টতা।
আড়িয়াল বিলের সহিংস ঘটনার পরের দিন গত ১ ফেব্রম্নয়ারি শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি পিপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন বেগম খালেদা জিয়াকে ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করে ৩ হাজার লোককে আসামি করে মুন্সীগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দাখিল করেন। পরে আদালত মামলাটি নিয়মিত মামলায় রম্নজু করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীনগর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। সেদিনই রাতে এই নথি থানায় পেঁৗছে। এদিকে খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে মামলা রম্নজু না হলেও তাঁর মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে হরতাল ঘোষণাসহ পালন করা হচ্ছে নানা কর্মসূচী।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মামলার ঘটনা গুজব! ॥ আড়িয়াল বিলের ঘটনায় কোন মামলাতেই আসামি নন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তবে বাড়ৈখালী এলাকার এক গ্রাম্যডাক্তার সিরাজুল ইসলাম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে রয়েছেন। শ্রীনগর থানায় পুলিশ হত্যা, ফাঁড়ি পোড়ানো ও পুলিশের ওপর হামলা ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত পৃথক তিনটি মামলার কোনটিতেই তাঁকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়নি বলে মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোঃ শফিকুল ইসলাম সন্ধ্যায় নিশ্চিত করে বলেন, এটি গুজব, মিথ্যাচার। শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের সিনিয়র এএসপি দেওয়ান লালন আহমেদ ও শ্রীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেনও একই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, একজন দেশবরেণ্য ব্যক্তির ব্যাপারে এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়া দুঃখজনক, এতে সমস্যা আরও জটিল করে দেয়। শ্রীনগর থানার ওসির বরাত দিয়ে দেশের একটি বার্তা সংস্থার বরাতে জাতীয় কয়েকটি দৈনিকে অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে আড়িয়াল বিলের ঘটনায় মামলার আসামি হিসেবে উলেস্নখ করে সংবাদ পরিবশেন করার ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সমালোচনা চলে।
ওসি জানান, ঐ বার্তা সংস্থা তো (শীর্ষ নিউজ) দূরের কথা, তিনি এমন কোন তথ্য কাউকে দেননি। দায়েরকৃত মামলায় আড়িয়াল বিল এলাকার বাড়ৈখালী গ্রামের এক গ্রাম্য ডাক্তার নাম ডা. সিরাজুল ইসলাম শ্রীনগর থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
জনকন্ঠ
—————————————————
[ad#bottom]

Leave a Reply