পদ্মায় ফেলা হয় লাশ
ঈদুল ফিতরের কয়েক দিন পর ৪ সেপ্টেম্বর নিজবাড়ি মাদারীপুরে যাওয়ার পথে মাওয়া থেকে নিখোঁজ হন মো. সুপার উদ্দিন ফকির। তাঁর সন্ধান পাওয়া না গেলেও এক মাস ১৪ দিন পর উদ্ধার হয়েছে তাঁর মোবাইল ফোনসেট। ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মাওয়া ঘাটের সি-বোট চালক মো. হৃদয়কে। সুপারকে খুন করে পদ্মায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সে। এ অপহরণ ও খুনের পেছনে সর্বস্ব লুটে নেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল বলে জানা গেছে।
মাদারীপুরের বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মীরকান্দি গ্রামের মৃত খালেদ ফকিরের বড় ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, তাঁর ছোট ভাই মো. সুপার উদ্দিন ফকির গত ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি যখন মাওয়া ঘাটে পেঁৗছেন, তখন রাত্র প্রায় ৮টা। এ সময় মোবাইল ফোনে বাড়িতে জানান, তিনি মাওয়ায় আছেন। বাড়ি থেকে তাঁকে ঝুঁকি নিয়ে সি-বোটে করে পদ্মা পাড়ি দিতে নিষেধ করা হয়। রাত্র ৯টার দিকেও সুপারের সঙ্গে বাড়ির লোকজনের যোগাযোগ ছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরও যখন সুপার বাড়ি ফিরছিলেন না, তখন বাড়ি থেকে সুপারের মোবাইলে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তাঁকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে অবশেষে ৭ সেপ্টেম্বর লৌহজং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা লৌহজং থানার এসআই বিল্লাল হোসেন জানান, থানায় জিডি হওয়ার পর নিখোঁজ সুপারের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট থেকে তাঁর মোবাইল সেটের আইএমই নম্বর বের করা হয়। আইএমই নম্বর মনিটর করে দেখা যায়, সুপারের সেটটিতে অন্য একটি নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে। নম্বরটিতে ফোন করে জানা যায়, এটি মাওয়া এলাকার একটি তেলের দোকানের কর্মচারী মিজানের নম্বর। পুলিশ মিজানকে আটক করলে তিনি জানান, সেটটি তিনি জাকিরের কাছ থেকে কিনেছেন। পরে পুলিশ জাকিরকে আটক করলে তিনি জানান, মাওয়া ঘাটের সি-বোট চালক হৃদয়ের কাছ থেকে তিনি মোবাইল সেটটি কিনেছেন। জাকিরের বর্ণনা মতে, পুলিশ হৃদয়কে সোমবার রাতে মাওয়া থেকে আটক করে।
হৃদয় পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে এক হৃদয়বিদারক খুনের কাহিনী। হৃদয় পুলিশকে জানিয়েছে, তারা তিন-চারজন ছিল ওই অপারেশনে। পদ্মা পার করে দেওয়ার নামে সুপারের সঙ্গে যাত্রীবেশে হৃদয়ের দুই সঙ্গী সি-বোটে ওঠে ওপারে যাওয়ার নাম করে। মাওয়া ঘাট থেকে সি-বোট ছেড়ে পদ্মার মাঝে গেলে হৃদয়ের সর্বস্ব লুটে নিতে তারা হামলা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তি করলে তারা পেটে ছুরি চালিয়ে সুপারকে খুন করে লাশ পদ্মায় ফেলে দেয়।
কালের কন্ঠ

Leave a Reply