দেড়-ঘন্টা যাবত বাড়ি ঘরে র‌্যাবের তল্লাসি : চেয়ারম্যানকে আসামী করে অস্ত্র মামলা

গজারিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতার দু’গ্রপের মধ্যে গুলিবিনিময়-সংঘর্ষে আহত ১০
মোজাম্মেল হোসেন সজল, মুন্সীগঞ্জ: ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ঈমামপুরে গতকাল শনিবার সকাল ও দুপুরে উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থক আওয়ামীলীগের দু’গ্রপের মধ্যে দফায় দফায় গুলি বিনিময়, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ৬-৭টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। ২ আ’লীগ কর্মীকে র‌্যাব-পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গুলি বিনিময়, সংঘর্ষ ও গুলিসহ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় শনিবার রাত সাড়ে ৭ টায় গজারিয়া থানার এসআই হায়দার আলী বাদী হয়ে গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতাকে প্রধান করে অঞ্জাত নামা আসামীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। এদিকে, গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষে উভয় গ্রপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার ও প্রদর্শন করলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সদস্যরা গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য হাফিজুর রহমান খানের বসত ঘরে দেড়-ঘন্টা তল্লাসি চালিয়েছে। দুপুর ২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত ঈমামপুর গ্রামের বাড়িতে যুবলীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে র‌্যাব-১১ এ তল্লাসি চালায়। অন্যদিকে, আ’লীগের দু’গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ঈমামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের পাল্টা-পাল্টি কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

র‌্যাব ও পুলিশ জানায়, সকাল ১০ টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতার দু’গ্রপের মধ্যে শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে ঈমামপুর ইউনিয়নের আঁধার মানিক গ্রামে আ’লীগের ওই দু’টি গ্রপের মধ্যে গুলি বিনিময় হলে ছাত্রলীগ কর্মী মো: রাসেল গুলিবিদ্ধ হয়। ছাত্রলীগ কর্মীকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালাতে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত রুবেলকে ভবেরচর স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে ভর্তি করা হয়। গুলি বিনিময়ের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ রাউন্ড গুলি, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ৩টি রামদা ও ২টি হকিষ্টিক উদ্ধার করে।

গুলি বিনিময়ের পর বেলা ১১ টার দিকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈমামপুর আ’লীগের সম্মেলন শুরু হলে গ্রপ দু’টি পাল্টা-পাল্টি শোডাউন করে। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের পক্ষে সৈয়দ হোসেন মাষ্টারকে সভাপতি ও ওয়ালিউল্লাহকে সাধারণ সম্পাদক করে ঈমামপুর আ’লীগের কমিটি ঘোষনা করা হলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্যের গ্রপ তা প্রত্যাখান করে। পরে যুবলীগ সদস্যের গ্রপ থেকে হারুনুর রশীদকে সভাপতি ও দেলোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে পাল্টা কমিটি ঘোষনা করে।

এতে সম্মেলন পুরোপুরি শেষ না করেই দু’গ্রপের লোকজন উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গন ছেড়ে যায়।

ওই দু’গ্রপের শতাধিক লোক ঈমামপুর গ্রাম গিয়ে অবস্থান করার সঙ্গে সঙ্গেই আবারো সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। এ সময় সেখানে র‌্যাব ও পুলিশের একাধিক টিম অবস্থান নেয়। এ সময় সোহেল, আজাদসহ উভয় গ্রপের ৮ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ সময় ঈমামপুর গ্রাম থেকে র‌্যাব আ’লীগ কর্মী সুমন ও আঁধার মানিক গ্রাম থেকে পুলিশ অপর আ’লীগ কর্মী জুয়েলকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার রাত পৌনে ৮ টা পর্যন্ত আ’লীগের দু’গ্রপের কেউই গজারিয়া থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।

Leave a Reply