মহিউদ্দিন ও সাংসদ ইদ্রিসের পক্ষের পাল্টাপাল্টি কমিটি

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের দুটি পক্ষ পৃথক সম্মেলন করে পাল্টাপাল্টি উপজেলা কমিটি গঠন করেছে। এতে মুন্সিগঞ্জ সদর ও শহর আওয়ামী লীগের মতো গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগও দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

দুটি সমেঞ্চলনকে ঘিরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছিল উত্তেজনা। নেতা-কর্মীদের সমাগমও ছিল প্রচুর। সমেঞ্চলনস্থলে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ।

গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, ফুলদি নদীর পশ্চিম প্রান্তে গজারিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহামঞ্চদ মহিউদ্দিন তাঁর পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে নির্ধারিত সমেঞ্চলন করেন। নদীর পূর্ব প্রান্তে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সমেঞ্চলন করেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এম ইদ্রিস আলীর পক্ষের নেতা-কর্মীরা। তবে এই সমেঞ্চলনে সাংসদ ইদ্রিস উপস্থিত ছিলেন না।


প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, গজারিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত সমেঞ্চলনে সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেফায়েত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কামরুল হোসেন চৌধুরী। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিয়ে তাঁরা গজারিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণের দিকে রওনা হন। কিন্তু ফুলদি নদীর পশ্চিম প্রান্ত থেকেই আবার উপজেলা পরিষদের দিকে ফিরে যান। এই ফিরে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তাঁরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পৌঁছে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের জানান।

কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী দেশের বাইরে যাওয়ার পর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতিবলে আমি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। বর্তমানে যিনি সভাপতি দাবি করছেন, তিনি অবৈধ।’

ফিরে আসার কারণ হিসেবে কামরুল হোসেন বলেন, ‘আমরা শুনেছি, সেখানে (পাইলট উচ্চবিদ্যালয়) বহিরাগত সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীরা অবস্থান করছে। আমরা গেলে সংঘর্ষ হতে পারে। এই আশঙ্কায় সেখানে না গিয়ে অধিকাংশ কাউন্সিলর ও প্রতিনিধি নিয়ে আমরা উপজেলা পরিষদ মাঠ প্রাঙ্গণে আলাদা সম্মেলন করি।’


রেফায়েত উল্লাহ খান বলেন, ‘সম্মেলনের দিন পর্যন্ত আমাকে কাউন্সিলরদের তালিকা দেওয়া হয়নি। তাঁরা (মহিউদ্দিন ও তাঁর পক্ষের লোক) নিজের পছন্দের লোক দিয়ে কমিটি গঠন করতে এই তৎপরতা চালান।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বেলা পৌনে দুইটার দিকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কামরুল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোস্তফা খান, সহসভাপতি আবদুস সাত্তার খান, ভবেরচর ইউনিয়নের সভাপতি লোকমান হোসেন, বাউশিয়া ইউনিয়নের সভাপতি মাজহারুল হক, টেঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহজাহান খান প্রমুখ। দ্বিতীয় অধিবেশনে রেফায়েত উল্লাহকে সভাপতি ও কামরুল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির বাকি সদস্যদের নাম সাংসদ এম ইদ্রিস আলীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে বলে আয়োজকেরা জানান।

এর আগে বেলা একটায় গজারিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পাঁচ বছরের বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রফেরত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। আলোচনায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো. সোলায়মান দেওয়ান, গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ প্রমুখ। দ্বিতীয় পর্বে কাউন্সিল অধিবেশনে মোহামঞ্চদ মহিউদ্দিন উপজেলা সভাপতি পদে সোলায়মান দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আমিরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন।

উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পাল্টা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘অল্প কিছু কাউন্সিলর প্রতিনিধি ছাড়া সম্মেলনে প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। ওই কমিটির কোনো ভিত্তি নেই।’

এর আগে গত সোমবার মুন্সিগঞ্জ শহর ও মঙ্গলবার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয়। জেলা সভাপতি মহিউদ্দিন দলের যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে ওই দুটি কমিটি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংসদ ইদ্রিস আলী ও তাঁর পক্ষের নেতারা।

প্রথম আলো
==============

গজারিয়া আ.লীগের পাল্টাপাল্টি কমিটি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পাল্টাপাল্টি ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার দু’টি পৃথক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। গজারিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয় বিবদমান এক পক্ষের সম্মেলন।

এতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুরনো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান দেওয়ানকে সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

তিনি জানান, ১৮৩ কাউন্সিলরের মধ্যে ১৬৩ জনের উপস্থিতিতে নিয়মানুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাল্টা সম্মেলন এবং কমিটি গঠনের কোন বৈধতা নেই।

অন্যদিকে গজারিয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পাল্টা সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল ইসলাম।

এই সম্মেলনে গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতাকে সভাপতি ও কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৭ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

রেফায়েত উল্লাহ জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর সংখ্যা ৬৭ জন। এর মধ্যে ৭ জন মারা গেছেন। বাকী ৬০ জনের মধ্যে ৩৯ জন উপস্থিত ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্সিলর লিস্ট না দেয়াসহ নানা কারণে ওই সম্মেলেন না গিয়ে পাল্টা সম্মেলন করা হয়েছে।

কামরুল ইসলাম দাবি করেন, ৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে উপস্থিত থেকে এই কমিটি গঠন করেছেন। তাই এটিই আইনগতভাবে বৈধ কমিটি।

গজারিয়া থানার ওসি শহিদুল ইসলাম পাল্টাপাল্টি সম্মেলন ও কমিটি গঠনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গজারিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সম্মেলনে দুই থেকে আড়াই হাজার এবং উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সম্মেলনে দেড় থেকে দুই হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে।

উভয় স্থানেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। সম্মেলন শেষ হওয়ার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

Leave a Reply