নির্বাচিত হলে ভাঙা মন্দির নির্মাণ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ভাঙা মন্দির পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি স্থানীয় মন্দিরের জন্য নগদ ১ লাখ টাকা অনুদান দেন।
খালেদা জিয়া বলেন, “ব্যর্থ হয়ে কোনো ইস্যু না পেয়ে একদিকে মসজিদে তালা অন্যদিকে মন্দিরে পাহারা দিচ্ছে সরকার। ইস্যু তৈরির জন্য মন্দির ভাঙছে তারা। ক’দিন পরেই মসজিদ ভাঙা শুরু করবে।”
খালেদা জিয়া বলেন, “এ সরকারের আমলে কোনো ধর্মের মানুষই নিরাপদ নন। তারা (সরকার) সন্ত্রাসীদের দিয়ে নিরাপদ মানুষ হত্যা করছে। তাদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। সরকারের দুর্নীতি-লুটপাট ঢাকতে তারা এখন গণহত্যা শুরু করেছে।”
এ সময় তিনি পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, “জাতিসংঘে শান্তিমিশনে বাংলাদেশের সব বাহিনী থেকে বাছাই করে সদস্যদের পাঠানো হয়। পুলিশ যদি এভাবে গণহত্যা বন্ধ না করে সবার ওপর গুলি চালায়, তা হলে জাতিসংঘে পুলিশ নিতে নিষেধ করবে বিএনপি।”
তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “হলমার্ক-ডেসটিনি পদ্মা সেতুতে সরকারের দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয়েছে। তাদের দুর্নীতির কারণে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংক নিজে তো টাকা দেয়ইনি বরং অন্যদেরও নিষেধ করে দিয়েছে।
খালেদা জিয়া শাহবাগের আন্দোলনের সমালোচনা করে বলেন, “এই সরকারের আমলে হলমার্ক, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি নিয়ে সারাদেশে যখন আন্দোলন শুরু হয়েছে, তখন এই দুর্নীতি ঢাকতে শাহবাগে আন্দোলন করছে তারা।”
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গোয়ালীমান্দ্রায় ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শনে যান।
এ সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে গোয়ালীমান্দ্রায় পৌঁছান খালেদা জিয়া।
ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শনের সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ।

এছাড়া যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা, নিতাই রায় চৌধুরীসহ বিএনপির বিভিন্নস্তরে নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীমন্দির পরিদর্শনের সময় খালেদা জিয়া কনক মালাসহ বেশ কয়েকজন নারী খালেদার কাছে প্রতিমা ভাঙার বিস্তারিত বর্ণনা শোনান।
এসময় তিনি মন্দির মেরামত করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। মন্দির সংস্কারের পুরো খরচ তিনি বহন করবেন বলে জানান খালেদা জিয়া।
এছাড়া বিনোদ দাশ (৭০) নামে এক বৃদ্ধ জানান, স্বাধীনতার যুদ্ধের সময়ও ওই হামলা হয়নি, যা কয়েকদিন আগে হলো।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালীমন্দিরে বেশ কয়েকটি পোস্টার সাঁটা রয়েছে। এসব পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘জামায়াত-বিএনপির হাত থেকে সংখ্যালঘুদের বাঁচান, সম্মিলিত সংখ্যালঘু পরিষদ।’
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গোয়ালীমান্দ্রা গ্রামের ঋষিবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন কালীমন্দিরে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ সময় সেখানকার ৩টি কালী মূর্তি ভাঙচুর করা হয়।
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Leave a Reply