মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লকান্দিতে বৃহস্পতিবারও দিনভর সহিংসতা, প্রতিপক্ষের কয়েকটি পরিবারকে গ্রাম থেকে বিতারিত, ভাংচুর এবং আতঙ্ক-উৎকন্ঠা চলে। সকালে মোল্লাকান্দির আমঘাটায় রূপচান মিয়াকে (৪২) রাম দা দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে পায়ের হাটু কেটে দেয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের বিবদাান এই দু’ গ্রুপের বিবাদ বন্ধে বুধবার রাতের সমঝোতা বৈঠকও ব্যর্থ হয়ে যায়। বৈঠক চলকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোনের ঘটনায় এই উদ্যোগ পন্ড হয়। তাই পুরো মোল্লাকান্দি ইউনিয়টিতেই এখন চলছে আতঙ্ক। সমঝোতার পরিবর্তে আরও মারমুখী হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। মহেশপুরের গ্রামে এখনও বারুদের গন্ধ। রাস্তায় রাস্তায় বিস্ফোরিত কটেলের ছাপ। আসন্ন আলু মৌসুমে কৃষক যেখানে চাষবাদের প্রস্তৃতি নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা তখন চলছে এই বিশৃঙ্খলা।
এদিকে পুলিশ সহিংসতা বন্ধে বৃহস্পতিবার রাতে তিনটি টিম গঠন করে ইউনিয়নটির বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছে। সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এই তথ্য দিয়ে রাতে জানান, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক দিনের ঘটনায় দু’পক্ষের দু’টি মামলা হয়েছে। এগুলোর এজাহার ভূক্ত আসামী ৪১ জন এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও আসামী রয়েছে।
বিগত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহ আলম মল্লিক ও বিজয়ী চেয়ারম্যান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন পাটুয়ারীর গ্রুপের মধ্যে চলছে এই সহিংসতা। সদর থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, রিপন পাটোয়ারীর সমর্থক ছোট মাকহাটি গ্রামের মো. খায়রুদ্দিনের নেতৃত্বে মহেশপুর গ্রামে আকস্মিক হামলা চালিয়ে বুধবার বিস্ফোরন ঘটায়। বৃহস্পতিবারও শাহ আলম মল্লিকের সমর্থক রূপচান মিয়াকে জখম করে। এদিকে প্রতিপক্ষকে জবাব দিতে শাহ আলম মল্লিকের সমর্থকরাও বসে নেই। ফের সহিংসতার আশঙ্কায় গ্রামবাসীরা। দু’ গ্রুপই ককটেলসহ অস্ত্রের সমাবেশ ঘটাচ্ছে।
মুন্সিগঞ্জেরকাগজ

Leave a Reply