সিরাজদিখানে বড় সংঘর্ষের আশঙ্কা: হত্যা মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নে টেঁটাযুদ্ধের ঘটনায় তকবির হোসেন ও জয়নাল মণ্ডল নিহত হওয়ার পরও আসামিরা ধারাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকায় ফের সংঘর্ষ ও হত্যা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ছাড়া ১৯৭২ সালে গেদা মেম্বার হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে অনেক খুনের মামলার বিচার হয়নি। ফলে সেখানে হত্যা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চলছে বংশপরম্পরায়।

জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে স্থানীয় স্বপন সরকারের দাদা আলী হোসেন সরকারের নেতৃত্বে বালুচর ইউনিয়নে হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। এর সাত বছর পরই গেদা মেম্বারকে মেরে ৭০ টুকরা করা হয়। পরে ১৯৭৫ সালে হত্যা করা হয় আইছালী নামে অন্য এক ব্যক্তিকে। এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলে আসছে সেখানে। ২০১৮ সালে আগবরনগরের বাসিন্দা জয়নাল এবং চার মাস পরে বালুচরের তকবিরকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডগুলো মীমাংসার নামে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

তাকবির হত্যা মামলার বাদী লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক এবং জয়নাল হত্যা মামলার বাদী খোকন সরকার। তাঁরা অভিযোগ করে জানান, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে প্রকাশ্যে হত্যা মামলার আসামিরা এখনো ঘুরে বেড়ায়। আসামিদের কেন পুলিশ ধরছে না তাও বুঝতে পারছেন না তাঁরা। তাঁরা আরো জানান, ২০১৮ সালের আগস্টে তকবির হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি নুর হোসেন বাউল, আমির হোসেন কসাইসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। তবে মামলার অন্যতম আসামিদের মধ্যে একাধিক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বাদীপক্ষকে হুমকি দিয়ে চলেছে। ওই মামলায় ১০০ জনকে আসামি করা হয়। যাদের মধ্যে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৪০ জনকে বেনামি আসামি করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তকবির হত্যা মামলার আসামিরা ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা আপস করার চেষ্টা করছে।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply