চাকরিতে বহাল সেই ভাণ্ডাররক্ষকঃ মুন্সীগঞ্জে ১০ লাখ টাকার ওষুধ ঘাটতি

মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকার ওষুধ ঘাটতি হওয়ার পরেও বহাল তবিয়তে ওষুধ চুরির দায়ে অভিযুক্ত মামুন। ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন সিভিল সার্জনের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্রে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। অজ্ঞাত কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গেছে। চুরি করার পর চোর ধরা পড়লে আইনের আশ্রয় না নিয়ে ১ বছরের সময় দেয়া হয় ওষুধের ঘাটতি পূরণের জন্য।

পরবর্তীকালে যেনতেন করে ১ বছর পরে স্টোরে মালামাল প্রবেশ করিয়ে মামুনকে চাকরিতে বহাল করলেন মুন্সীগঞ্জের সদ্য বদলিকৃত সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী। ভান্ডার রক্ষক মো. মামুনের বিরুদ্ধে ৬টি লিখিত অভিযোগ উল্লেখ করে অভিযুক্ত করা হয়। স্টোরে সংরক্ষিত ওষুধ ও অন্যান্য মামলা সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। ২০১৬ সালের জুলাইয়ের পরে হালনাগাদ করা নাই। দীর্ঘ সময় হালনাগাদ করার জন্য সময় দিয়েও হালনাগাদ করাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ২০১৯ সালের ৪ ফেব্র“য়ারি সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারি করেন। স্টোর ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, সরকারি মালামাল ওষুধসামগ্রী আত্মসাৎ, অসৎ উদ্দেশ্যে দুর্নীতির আশ্রয় ও বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ- এসব অপরাধে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের ভান্ডার রক্ষক মো. মামুন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা করা হয়।

দীর্ঘ সময় পর পুনরায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলমকে সভাপতি করে ডা. দেওয়ান নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও ডা. মো. তাজুল ইসলামকে সদস্য করে এই তদন্ত কমিটি করা হয়।

এ বিষয়ে ভান্ডার রক্ষক মামুন জানান, আমি ওষুধ ক্রয় করে জমা দিয়ে ঘাটতি পূরণ করছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হয়েছে পরে তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত দেওয়ার পরে আমার সাময়িক বরখাস্তের অর্ডার তুলে নেয়া হয়েছে। আমি এখন মুন্সীগঞ্জ হসপিটালেই কর্মরত আছি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. মো. আশরাফুল আলম জানান, মামুনের অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম, সরকারি আচরণবিধি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং এহেন আচরণ শাস্তি যোগ্য অপরাধ হয়েছে এমনটিই তদন্ত প্রতিবেদনে লিখে দিয়েছি। এখন কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। চাকরিতে পুনঃবহাল করার বিষয়ে ডা. শেখ ফজলে রাব্বী জানান, ঘাটতিকৃত ওষুধ সে যেভাবেই হোক পূরণ করে দিয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের কারইে লঘুদণ্ড দিয়ে সাসপেনশন উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।

যুগান্তর

Leave a Reply