মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে এক নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে বাড়িতে আনার চার দিন পর জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর চেষ্টা ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়েছে। ঢাকা থেকে গর্ভপাত করাতে আসা টিমের এক নারী সদস্যকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার দুপুরে ২টার দিকে উপজেলার পশ্চিম সিংপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের সার ব্যবসায়ী দুই সন্তানের জনক রিপন শেখ চার দিন আগে দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে দিপা বেগম (৩০) নামে এক নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরকিয়া প্রেমের সূত্র ধরে দিপা ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় রিপনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে রিপন তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে দিপার ইচ্ছার বিরুদ্ধে রিপন গর্ভপাত করানোর জন্য ঢাকা থেকে চার জনের একটি টিম আনে। তারা এসে জোরপূর্বক দিপার গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করে। সে সময় দিপা চিৎকার করলে তাকে জলাতঙ্ক রোগের চারটি ভ্যাকসিন পুশ করা হয়।
রিপনসহ বাড়ির লোকজন হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দিপার হাত ও পায়ের হাড় ভেঙ্গে দেওয়াসহ মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে। পরে স্থানীয়রা এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দিপাকে উদ্ধার করে এবং গর্ভপাত করাতে আসা টিমের আম্বিয়া (৪২) নামে এক নারীকে আটক করে পলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দিপাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে ও আম্বিয়াকে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ আসার আগেই অভিযুক্ত রিপন পালিয়ে যায়।
রিপনের প্রথম স্ত্রী তানিয়া বেগম জানান, তার স্বামী রিপন ওই নারীকে ঘরে আটকে অজ্ঞাত দুই নারীর সহযোগীতায় জোরপূর্বক ইনজেকশন পুশ করে ও হাতুরি দিয়ে পায়ের গিরাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে গর্ভপাত করাতে আসা দুই নারী-পুরুষ ও রিপন পালিয়ে যায়।
মামুন নামে রিপনের এক প্রতিবেশী জানান, রিপন স্ত্রী পরিচয়ে যে নারীকে বাড়িতে নিয়ে আসে তিনি দুই মাসের গর্ভবতী। রিপন লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক তার গর্ভপাতের চেষ্টার পাশাপাশি অমানবিক নির্যাতন করেছে।
তন্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর বলেন, অভিযুক্ত রিপন ওই নারীকে হাতুরি পেটা করেছে। জোরপূর্বক শরীরে র্যাবিক্স-ভিসি নামক একাধিক ইনজেকশন দেয়। আহত ওই নারীকে পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাশফি জানান, নির্যাতনের কারনে দিপা স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারছে না। তার হাত-পায়ের হাড় ভাঙ্গা। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।
শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়াসিন মুন্সী জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। আটক নারী থানায় আছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অবজারভার

Leave a Reply