চাঁদাবাজমুক্ত মুন্সীগঞ্জ গড়তে কাজ করবে পুলিশ

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নৌ ডাকাতদের পক্ষে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় পুলিশ ক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার দাবিতে একটি মানববন্ধন ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে। এ বিষয়ে শনিবার রাতে মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ একটি বিবৃতি দিয়েছে।

জেলা পুলিশ বলছে, স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারে আমরা পিছু হটবো না। গুয়াগাছিয়া তথা গজারিয়াবাসীর গণদাবিতে ক্যাম্পটি স্থাপিত হয়েছে। মেঘনা নদী তীরের লোকজনকে একটি নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত জারিয়া তথা মুন্সীগঞ্জ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাবোই।

জেলা পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির উদ্যোগে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদের সহায়তায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বাড়িতে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি করে নৌ ডাকাতদের লোকজন একটি মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান এস এম আনোয়ার হোসেন আকাশ। আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. কাজী মো. মনিরুজ্জামানসহ ২৫/৩০ জন। জেলা পুলিশ গুয়াগাছিয়া পুলিশ ক্যাম্পটি ভাড়া নেয়া একটি ভবনে চালু করেছে যা গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে অবস্থিত।

জেলা পুলিশ ব্যাখ্যায় বলেন, প্রকৃতপক্ষে স্থাপিত ক্যাম্প ভবনটির ভূমিসহ মালিক মো. হালিম দেওয়ান, আ. কাইয়ুম দেওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী মাইনউদ্দিন দেওয়ান। হালিম দেওয়ান ও কাইয়ুম দেওয়ান দুই ভাই নারায়ণগঞ্জে সুতার ব্যবসা করেন।

কাইয়ুম দেওয়ান ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বিজেএমইএ’র সদস্য। তাদের কারও কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি বা পদ পদবী নেই। মাইনুদ্দিন দেওয়ান অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। সেখানেও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নন।

কৌশলগত ভাবে পুলিশ ক্যাম্পটি নদীর পাড়ে এমন একটি জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে যেখান থেকে নৌ-পথে চাঁদাবাজির স্পট, বালু উত্তোলনের স্থান এবং নৌ-ডাকাতদের অবস্থান দৃশ্যমান হয়। ফলে ক্যাম্পটি স্থাপিত হবার পর থেকে বালুখেকো এবং নৌ-পথের চাঁদাবাজরা চাঁদাবাজি করতে পারছেনা।

ইতোমধ্যে নৌ-ডাকাতরা ক্যাম্পের সম্মুখের নদীতে পুলিশের টহল টিমের উপর গুলিবর্ষণ করে ও ককটেল ফাটিয়ে হামলা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর শীর্ষ নৌ-ডাকাত রিপনসহ তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকি নৌ-ডাকাতরা পলাতক অবস্থায় রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কামরান হোসেন জানান, নৌ-ডাকাতদের পক্ষের লোকজন পুলিশ ক্যাম্প অন্যত্র সরিয়ে নির্বিঘ্নে নৌ পথে চাঁদাবাজি পুনরায় চালু করতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে। যার অংশ হিসেবেই মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে পুলিশকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে তারা সুপরিকল্পিত ভাবে মানববন্ধন করিয়েছে। আমরা পিছু হটবো না। গজারিয়াকে নিরাপদ ও চাঁদাবাজমুক্ত করবোই। এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই।

গত কয়েক মাসে অবৈধ বালু তোলা, নদীর দখল নিয়ে নৌ ডাকাতদের দুই গ্রুপের গোলাগুলিতে বাবলা ডাকাত, নৌ ডাকাত শুটার মান্নান, হ্নদয় বাঘসহ পাঁচ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। নদীপথে নৌ ডাকাতরা প্রতিদিন অবৈধ আয় অর্ধ কোটি টাকা।

গত ২২ আগস্ট গুয়াগাছিয়ায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের ফলে নৌ ডাকাতদের অবৈধ আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ডাকাতরা যৌথ বাহিনীর অভিযানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষ এলাকায় ফিরে এসেছেন।

অবজারভার

Leave a Reply