মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে গজারিয়া উপজেলায় দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের নারীসহ আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় গাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে বলে গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ জানান।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিএনপি দ্বিতীয় দফায় সারাদেশে আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে। এতে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন।

মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা। এরপর থেকেই দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। শুক্রবার তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে স্বাধীন (২৮) ও সাইদুলের (২৫) অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত শিরিনা বেগম (৪৬), দেলোয়ার (৪৯), মোস্তফা (৪৮), সুজন (২৩), আসিফ মীর (১৯), নয়নকে (২৬) স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার কয়েকজন দোকানি বলেন, বিকাল ৫টায় মহিউদ্দিনের সমর্থকরা সাহারা মার্কেট এলাকায় জড়ো হন। তারা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
অপরদিকে, কামরুজ্জামান রতনের সমর্থকরা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম আহমেদ এবং হোসেন্দী ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মমিন মৃধার নেতৃত্বে সড়কের পাশে অবস্থান করছিলেন।
হঠাৎ করেই মুখোমুখি অবস্থায় দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারপরই দুপক্ষ সংঘর্ষ জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তিনি সবাইকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেন।
মহিউদ্দিনের সমর্থক আলী হোসেন অভিযোগ করেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার গাড়ি ও কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। ছয়-সাতজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।”
অন্যদিকে কামরুজ্জামান রতনের সমর্থক মমিন মৃধা দাবি করেন, “কামরুজ্জামান রতন ভাই মনোনয়ন পাওয়ায় গজারিয়ার মানুষ আনন্দিত। আমরা আনন্দ মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এ সময় আলী হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে গুলি, হাতবোমা বিস্ফোরণ ও ইট নিক্ষেপ করা হয়। তখন আমাদের লোকজন তা প্রতিহত করে।”
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য মুহাম্মদ মাসুদ ফারুক বলেন, “এটা বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ নয়। রতন ভাই মনোনয়ন পাওয়ায় সাধারণ মানুষ আনন্দ করেছে। আর তারা আওয়ামী দোসরদের প্রতিহত করেছে।”
গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, পুলিশ সর্তক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মহিউদ্দিন আহমেদের সমর্থকরা সদরের মুক্তারপুর সেতু বিকাল ৫টা থেকে দেড় ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এতে চরম দুর্ভোগে পরে মানুষ।
বিডিনিউজ

Leave a Reply