
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলু পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ফায়দা পাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ীরা। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চরাঞ্চলে আলু পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আলু পরিবহন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় ফায়দা পাচ্ছে পাইকারী ব্যবসায়ীরা আর শ্রমের মজুরি কম পাচ্ছে শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পাইকারদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নেওয়া হলেও কম মজুরি দিয়ে শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।
রবিবার পদ্মা নদী তীরবর্তী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘিরপাড়, হাসাইল ও চর বেহেরপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরাঞ্চল থেকে উত্তোলিত আলু ঘোড়ার গাড়ি ও ট্রলির মাধ্যমে প্রধান সড়কে আনা হচ্ছে। পরে সেখান থেকে হিমাগারে নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিকরা নিয়োজিত রয়েছেন।

চরাঞ্চল থেকে উত্তোলিত আলু ঘোড়ার গাড়ি ও ট্রলির মাধ্যমে প্রধান সড়কে আনা হচ্ছে। ছবি: দেশকাল নিউজ ডটকম
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সাহা হালদার, রুবেল খান ও মিজান বেপারী গংয়ের নিয়ন্ত্রণেই এই পরিবহন কার্যক্রম চলছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করলে কাজে যুক্ত করা হয় না বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
তাদের ভাষ্য, “আমরা দূর-দূরান্ত থেকে কাজ করতে আসি। কিন্তু ন্যায্য মজুরি পাই না। পাইকারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও আমাদের দেওয়া হয় মাত্র ১৮ থেকে ২০ টাকা।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাহা হালদার বলেন, “তার তত্ত্বাবধানে কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি পরিচালিত হয়।”
তিনি দাবি করেন, “আমরা পাইকারদের কাছ থেকে প্রতি বস্তায় ২৫ টাকা নেই এবং শ্রমিকদের ২০ টাকা করে দেই। এছাড়া শ্রমিক সর্দার ও তদারককারীর জন্য অতিরিক্ত ২ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়ায় ২২ টাকা। এতে আমাদের থাকে ৩ টাকা।”
রুবেল খান বলেন, “এখনো নির্দিষ্ট কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। খরচ বাদে সামান্য কিছু অর্থ থাকে বলে তিনি দাবি করেন।”
মিজান বেপারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাই আলু পরিবহনে শ্রমিকদের সহায়তা করছি মাত্র।”
স্থানীয়দের মতে, পুরো বিষয়টি তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো হলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ ব্যাপারে জানতে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দেশকাল নিউজ

Leave a Reply