মুন্সীগঞ্জ ডিসির উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

মুন্সীগঞ্জের আধারা ইউনিয়নের বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানে।

মুন্সীগঞ্জ জেলার আধারা ইউনিয়নের বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার (১৬ জুন) অভিভাবক সমাবেশ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং মানসম্মত শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ডিসির মিষ্টি বিতরণ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ উল্যাহ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান।

এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ভিত্তি হলো মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা। শিশুদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই গড়ে ওঠে। তাই তাদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নারী শিক্ষার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, শিক্ষিত নারী শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই প্রতিটি কন্যাশিশুর নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা বাল্যবিবাহকে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়া পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়। উপস্থিত অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি শিক্ষিত, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এইমাত্র

Leave a Reply