কক্সবাজারে ‘পছন্দের ছেলে’র সঙ্গে ছিলেন, বাসায় ফিরে অপহরণ নয় বলে দাবি এইচএসসি পরীক্ষার্থীর

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালপদিয়া এলাকার নিখোঁজ সেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী আনিছা আক্তার বাসায় ফিরেছেন। রোববার রাতে পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আনিছার মা আরজু বেগম সিরাজদিখান থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে দাবি করেছিলেন, গত ২৯ জুন কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মালখানগর কলেজ রোড এলাকা থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে তার মেয়েকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনায় দক্ষিণ তাজপুর এলাকার শামসুল শেখের ছেলে মো. হানিফ শেখসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নিখোঁজ থাকায় ২ জুলাই শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি আনিছা। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েকে ফেরত না দিয়ে অভিযুক্তরা উল্টো তাদের হুমকি দিচ্ছিল। এ কারণে আতঙ্কে পরিবারের আরেক পরীক্ষার্থীও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি।

তবে বাসায় ফেরার পর পুলিশের কাছে আনিছা জানান, তাকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি নিজের ইচ্ছায় মো. হানিফ শেখের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন এবং তারা বিয়ে করেছেন।

আনিছার দাবি, গত ২৯ জুন ঢাকার একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি ও হানিফ শেখ বিয়ে করেন। পরে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের কাবিন সম্পন্ন হয়। কাবিননামা অনুযায়ী, আনিছার বয়স ২০ বছর এবং হানিফ শেখের বয়স ৩০ বছর। বিয়ের সময় দুইজন সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন বলেও তিনি জানান।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিয়ের পর ওই দম্পতি কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে, হানিফ শেখের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, গত দুই বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আনিছার মা তাতে সম্মতি দেননি বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি, কাবিননামা এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টারমিগান

Leave a Reply