মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদী এখন ‘রুপালি ধুলার’ বিষে নীল

মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীতীরবর্তী জনপদ এখন ‘রুপালি ধুলার’ বিষে নীল। নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা সিমেন্ট কারখানাগুলোর ক্লিংকার খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহনের ফলে সৃষ্ট ধুলায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে পরিবেশ। ধুলার এই আস্তরণ শুধু প্রকৃতি নয়, নিশ্বাস কেড়ে নিচ্ছে সাধারণ মানুষেরও।

সরেজমিনে সদর উপজেলার মুক্তারপুর ও চরমুক্তারপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীতীরের বিশাল এলাকা ধুলার চাদরে ঢাকা। জাহাজ থেকে খোলা অবস্থায় ক্লিংকার নামানোর সময় বাতাসের সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমিতে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে এই নরকযন্ত্রণা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

মিরেশ্বরাই গ্রামের বাসিন্দা মো. কবির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সিমেন্ট কারখানার ধুলা আর বালির অত্যাচারে আমরা নদীর পাড়ে দাঁড়াতে পারি না। চোখে-মুখে ধুলা ঢুকে যায়। একটু শান্তি নিয়ে যে নদীর পাড়ে বসব, সেই উপায়ও নেই।’

একই অভিযোগ নয়াগাঁও এলাকার নূর হোসেন বেপারীর। তিনি বলেন, ‘ধুলাবালির ভয়ে আমরা ঘরবাড়ির দরজা-জানালা পর্যন্ত খুলতে পারি না। সারা দিন সব বন্ধ করে বন্দি হয়ে থাকতে হয়।’ মিরসরাই গ্রামের বিনা বেগমের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার মতে, বছরের পর বছর এই সমস্যা চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।

চিকিৎসকেরাও এই ধুলার প্রভাবে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন। মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, সিমেন্ট কারখানার এই সূক্ষ্ম ডাস্ট বা ‘ফ্লাই অ্যাশ’ বাতাসের সঙ্গে মিশে মানবদেহে প্রবেশ করে ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এটি শুধু মানুষের জন্য নয়, ফসলের জন্যও ক্ষতিকর। প্রশাসনিকভাবে এর তদারকি ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, তারা নিয়ম ভাঙার অভিযোগে মাঝেমধ্যেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, কারখানাগুলোকে ডাস্ট নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া আছে। নির্দেশনা না মানলে জরিমানা করা হয়। এমনকি গত দুই মাস আগেও একটি কারখানাকে এ কারণে জরিমানা করা হয়েছে।

তবে শুধু জরিমানাতেই সমাধান দেখছেন না পরিবেশবাদীরা। তাদের মতে, ক্লিংকার খালাস ও পরিবহনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার না করলে এবং আইন প্রয়োগে কঠোর না হলে এই জনপদ অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

সংবাদ

Leave a Reply