নিশুতি রাতে অন্ধকার ঘরে থমকে আছে নিঃশ্বাস,
অসুস্থ দেহে ধুঁকে মরে বাপ, ভেঙেছে জীবনের আশ।
চুলায় জপেনি আগুনের শিখা, পেটে ক্ষুধাদৈত্য নাচে,
নেশার টাকার হুঙ্কারে ছেলে যম হয়ে এসে দাঁড়ায় কাছে।
কোথা থেকে দেবে টাকা? ঘরে তো নেই একমুঠো ছাই,
ওষুধ কেনার পয়সা নাই যে, পথের ধুলোয় ঠাঁই।
চোখের সামনে ধুঁকছে স্বামী, রুগ্ন শিউরে ওঠে তনু,
সন্তানের এই রাক্ষস রূপ ভাঙল পিতার ধনু।
“কী দেব তোরে? রক্ত নিবি? শরীর তো শুকিয়ে কাঠ,
বাজার করার সামর্থ্য নাই, বন্ধ জীবন-হাট।
নিজেদের পেটে নাই রে দানা, বাঁচার তাগিদ দূরে,
তোর আতঙ্কে রোদ-বৃষ্টিতেও আতর গন্ধ ওড়ে।”
মা ছুটে যায় দ্বারে দ্বারে, খাবার চাওয়ার ভীতি ভুলে,
ছেলে পাছে কী ঘটিয়ে ফেলে—ভয়ে জীর্ণ দুয়ার খোলে।
ঘুমাতে পারে না বৃদ্ধ পিতা, রাত কাটায় জেগে ভয়ে,
কখন জানি কোপ মারে ছেলে অন্ধ মোহের তোরে!
যার দরুন এত সয়ে লালন, যার জন্য এত ত্যাগ,
আজ সেই ছেলেই দিল এনে মৃত্যুর বিষাক্ত দাগ!
হায় রে জীবন, হায় রে কপাল, আঁধার রাতের শেষে,
মাদকাসক্ত সন্তানের ভীতিতে রুগ্ন পিতামাতা নিঃশেষিত প্রায় অবশেষে!

Leave a Reply