আরিফ হোসেন: শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ঐ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান হাবীবের অত্যাচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রবিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের হাসাড়া স্কুল গেট নামক স্থানে হাসাড়া, আলমপুর ও লস্করপুর গ্রামের বিভিন্ন বয়সের শ শ নারী পুরুষ ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী ষাটোর্ধ বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন আহসান হাবীবের অত্যাচার থেকে আওয়ামী লীগ কর্মী থেকে শুরু করে সংখ্যা লঘু সদস্যরাও রক্ষা পাচ্ছেনা। তিনি আরও জানান, আলমপুর গ্রামের সংখ্যা লঘু নারায়ন মিস্ত্রি তার বাড়ী সংলগ্ন খালের মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় দুই সপ্তাহ আগে আহসান হাবীব তাকে ডেকে নিয়ে চর মারে।
মানববন্ধনে ভাংগা হাত দেখিয়ে দিন মজুর আরজ আলী (৩৫) বলেন চেয়ারম্যানের হুকুম পালন না করায় এক সপ্তাহ আগে আহসান হাবীবের উপস্থিতিতে তার ক্যাডার নাসির, পলাশ, আশরাফুল, রনি, আওলাদ, কালু সহ কয়েক জন তাকে মারতে মারতে পানিতে নামিয়ে ফেলে। এতে আরজ আলীর হাতের কব্জি ভেংগে যায়। এঘটনার দু-এক দিনের ব্যবধানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে আলমপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম (৪০) ওরফে জামাই নুরুল ইসলামের হাতও ভেংগে দেয়।




দলীয় প্রভাব ও হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তারের জন্য তার নিজের ও ক্যাডার বাহিনীর অত্যাচারে ঐ এলাকার মানুষ এখন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ কর্মী কালাচাঁন (৪০) কে মারধরের ঘটনায় অনেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতাও আওসান হাবীবের প্রতি প্রতিবাদী হয়ে উঠে। আলমপুর হোসেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে আহসান হাবীবের কথা মতো ভোট না দেওয়ায় ঐ গ্রামের বৃদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মী ছাবেদ তালুকদার (৬৫) কে সে তার বাড়ীতে ডেকে নিয়ে ঘরের ভেতর আটকে মারধর করে। এছাড়াও হাবিব (৪০), মামুন (৩০), হাদী (২৫), অহিদুল (১৮) কে আহসান হাবীর বিভিন্ন সময়ে মারধর করে।
মানববন্ধনে অংশ গ্রহন কারী এক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, প্রতিটি ঘটনার পরপরই উল্টো মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আহসান হাবীব তার হাত অনেক লম্বা বলে নিজের দম্ভ প্রকাশ করেন। ঐ ইউনিয়নে একের পর এক ঘটনায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ আহসান হাবীবের মুক্তির জন্য মানববন্ধনে অংশ গ্রহন করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Leave a Reply