মুন্সীগঞ্জ সদরের বাজার সংলগ্ন খালইস্ট মহল্লার মোড়ে অটোরিকশার স্ট্যান্ড বসিয়ে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকার চাঁদা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, বেতনভুক্ত কর্মচারী (লাইনম্যান) রেখে তাদের কাছ থেকে দিনভর চাঁদা আদায় করা হয়। বর্তমান লাইনম্যান মো. কাশেম ওরফে কাইস্যার ধমক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে তারা এ নিয়ে মুখ খুলতেও পারেন না। অনেকটা বাধ্য হয়ে নিয়মিত চাঁদা দিয়ে আসলেও তারা জানেন না, এ টাকা কোথায় যায় বা কারা পায়।
চাঁদা আদায়কারী কাশেম বলেন, ‘যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের লোক চাঁদা তোলে।’ তবে সুনির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

চাঁদা্ তুলছেন মো. কাশেম ওরফে কাইস্যা
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ সদর বাজারের স্ট্যান্ড থেকে চর কিশোরগঞ্জ ও মেঘনাঘাট এলাকা পর্যন্ত প্রায় দেড়-দুইশ সিএনজি ও ব্যটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। সদর বাজারের স্ট্যান্ড থেকে চর কিশোরগঞ্জ ও মেঘনাঘাট এলাকা পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়ায় জনপ্রতি ১৫-২০ টাকা করে নেন চালকরা। কিন্তু তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা করে চাঁদা নেয় লাইনম্যান। অন্যদিকে, নতুন একটি অটোরিকশা এ রুটে নামাতে পাঁচ-দশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এভাবে প্রতি মাসে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। কিন্তু এ চক্র বা চক্রের সদস্যদের বিষয়ে কিছুই জানে না প্রশাসন।
চালকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চাঁদার টাকার ভাগ নেন।

স্ট্যান্ডে মো. কাশেম ওরফে কাইস্যা
স্থানীয়রা জানান, স্ট্যান্ডের কারণে বাজার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, সকালের সময়ে অফিস ও স্কুলগামীদের এই স্থানে যানজটে পড়তে হয়। মহল্লার সবার অসুবিধা হলেও ঝামেলায় পড়তে হতে পারে—এই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না।
স্ট্যান্ডে মো. কাশেম ওরফে কাইস্যাশুক্রবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে এক চালকের কাছ থেকে চাঁদার টাকা নেওয়ার সময় এ প্রতিবেদক ছবি তোলেন। ছবি উঠানোর পর চাঁদা আদায়কারী কাশেম বলেন, ‘কেউ তো কোনও কথা বলে না, আপনি বলার কে?’
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান দর্পণ বলেন, ‘অটো স্ট্যান্ডটি অবৈধ। এখানে যেন অবৈধ স্ট্যান্ড না থাকে, আমরা সে ব্যবস্থা নেবো।’
চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে কিছু জানেন না দাবি করে পুলিশের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান বলেন,‘এ রকম কোনও অবৈধ স্ট্যান্ড আছে বলে আমার জানা নেই। যদি থাকে, তবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’
সি এম তানজিল হাসান
বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply