মা ইলিশ রক্ষায় কাল রাত থেকে মাছ ধরা বন্ধ

লৌহজং ও আশপাশের এলাকায় চলছে নিষেধাজ্ঞা অমান্যের প্রস্তুতি
মা ইলিশ রক্ষায় আগামীকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। তবে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, টঙ্গিবাড়ী, শ্রীনগর, ঢাকার দোহার, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের জেলেরা এ সময়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যথেষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা।

গত বছর নিষেধাজ্ঞার সময়েও লৌহজং ও আশপাশের এলাকায় পদ্মায় ইলিশ ধরা ‘মহোৎসব’ রূপ পায়। প্রশাসন ও পুলিশের কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে বাধাহীনভাবে চলে এ কর্মযজ্ঞ। অর্থের বিনিময়ে জেলেরা অভিযানের খবর আগেই জেনে যেত বলে অভিযোগ আছে। এবারও জেলেরা একই পন্থা অনুসরণের চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস তালুকদার জানান, মা ইলিশ রক্ষায় এ মৌসুমে জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ থাকছে। গত বছর মৎস্য অভিযান পরিচালনার জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। পদ্মায় একটি অভিযান পরিচালনা করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকার দরকার হয়। তা ছাড়া মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুন খরচ তো আছেই। বরাদ্দ করা টাকা দিয়ে দুটির বেশি অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। যথাযথ বরাদ্দ না পেলে অভিযান চালানো কষ্টকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

পদ্মাপারের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এবার নিষেধাজ্ঞার সময় পদ্মায় ইলিশ ধরতে জেলেদের চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তাদের মধ্যে একটি উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন নৌকা ও জাল, মেরামত করা হচ্ছে পুরনো নৌকা আর জাল ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি। নতুন করে তৈরি হয়েছে কয়েক শ নৌকা বা ট্রলার। সি-বোট দিয়ে ইলিশ ধরতে তৈরি হয়েছে নতুন একটি সিন্ডিকেট। এরই মধ্যে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটের ৯০ শতাংশ সি-বোট ইলিশ ধরার জন্য বুকিং বা ভাড়া হয়ে গেছে। দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকায় ইলিশ ধরা বন্ধের ২২ দিনের জন্য এসব সি-বোট ভাড়া হচ্ছে।

লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান বলেন, এবার মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের প্রস্তুতি আছে। ইলিশ ধরে কেউ ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে সরাসরি দণ্ড দেওয়া হবে।

কালের কন্ঠ

Leave a Reply