কুন্ডেরবাজার পয়েন্টে নির্মাণ হচ্ছে ১৫২ মিটারের নতুন সেতু

মুন্সীগঞ্জ-শ্রীনগর সড়কের টঙ্গীবাড়ির কুন্ডেরবাজার পয়েন্টে অবশেষে ১৫২ মিটার দীর্ঘ পাকা সেতু সেতুর নির্মাণ হচ্ছে। ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণে সময় লাগবে দেড় বছর। এটি চালু হলে এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পদ্মার শাখা নদী তালতলা-গৌরগঞ্জ খাল মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তিনটি উপজেলাকে বিভক্ত করেছে। শ্রীনগর-মুক্তারপুর-পঞ্চবটি আঞ্চলিক মহাসড়কের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কুন্ডেরবাজার এখন পাকা সেতুতে যুক্ত হবে সিরাজদিখান উপজেলার বাড়ইপাড়ার সঙ্গে।

১৯৯৮ সালে ৯৮ মিটার দীর্ঘ বেইলি ব্রিজ করে প্রথম সড়কটিতে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। তবে সরু এ সেতু ঘিরে যানজট লেগেই আছে। আর এ সময় সেতুটি প্রায় ৩০ বার বড় ধরনের মেরামত করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় দফায় দফায় বন্ধ রাখতে হয় এটি।

দুই লেনের নতুন সেতুটি পদ্মা সেতু এবং বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে জেলা শহর মুন্সীগঞ্জের যোগাযোগ সহজ করবে। এতে এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতসহ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি বলেন, ‘কুন্ডেরবাজার ব্রিজটি হয়ে গেলে টঙ্গীবাড়িসহ অন্যান্য উপজেলার মানুষের জীবনযাত্রা উন্নয়ন হবে। যাতায়াতের সুবিধা হবে। এবং মালামাল পরিবহন সহজ হবে। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার চেহারায় বদলে যাবে। শুধু টঙ্গীবাড়িই না লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান উপজেলার মানুষ জেলা সদরে আসতে এ ব্রিজটি ব্যবহার করে। সেতুটি হয়ে গেলে জেলার ৪টি উপজেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।’

সেতু নির্মাণে সময় লাগবে দেড় বছর। আর নির্মাণাধীন পুরনো বেইলি ব্রিজ দিয়েই সড়কটি চালু রাখা হবে।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবুল কাসেম মো. নাহিন রেজা বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৩৮টি সেতুর প্রতিস্থাপন কাজ চলছে। এ কুন্ডেরবাজার ব্রিজটিই বাকি ছিল। পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংযোগকারী হিসেবে এবং মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রাম হাইওয়ের সঙ্গে যে সংযুক্তকরণ সড়ক; এ সেতু নির্মাণ হলে সেটি যোগাযোগের যুগান্তকারী উন্নয়ন হবে বলে আমি আশাকর।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরাজীর্ণ সেতু উন্নয়ন প্রতিস্থাপন প্রকল্পের আওতায় একটি প্যাকেজের মাধ্যমে এই কুন্ডেরবাজার সেতু ও বাড়ৈপাড়া দুইটি সেতুর কাজ করবো আমরা। এ সেতুটি ১৫০ মিটার ও বাড়ৈপাড়া সেতুর দৈর্ঘ্য ২৬ মিটার। এই দুইটি সেতুর সর্বমোট প্রাক্কলিত মূল্য হচ্ছে ৮৪ কোটি টাকা। আশাকরি কিছুদিনের মধ্যে এই সেতুর কাজ আমরা শুরু করব।’

পদ্মা ও ধলেশ্বরীর সংযোগের সহজ নৌপথ বাঁধাহীন রাখতে ১৮ মিটার ভার্টিকেল ক্লিয়ারেন্স রেখে ১৫২ মিটার দীর্ঘ এই সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা।

সময় সংবাদ

Leave a Reply