সিরাজদীখানে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে নিখোঁজের তিন দিন পর একটি পুকুর থেকে ফাতেমা আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খান (২৫) পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং মরদেহ পুকুরে ফেলে দেয়।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের পূর্ব রশুনিয়া গ্রামে এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিল শিশু ফাতেমা। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। স্থানীয়রা জানান, ওয়াজ মাহফিলের সময় ফাতেমাকে এক আইসক্রিম বিক্রেতার সঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যে তাকে ফ্রি আইসক্রিম খাওয়াচ্ছিল। এরপর থেকে শিশুটিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বুধবার দুপুরে এলাকাবাসী সন্দেহভাজন হিসেবে আইসক্রিম বিক্রেতা সাব্বির খানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। একই দিন ফাতেমার মা বিলকিস বেগম থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং মরদেহের অবস্থান জানায়।

সাব্বিরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সিরাজদীখান থানা পুলিশ রশুনিয়া গ্রামের ব্যাঙ্গ দিঘি পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, শিশুটিকে মঙ্গলবার রাতেই হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে বিক্ষুব্ধ জনতা সাব্বিরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

সিরাজদীখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, ‘আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

কালবেলা

Leave a Reply