এতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চলমান অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য কৃষি জমি ও পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ও জমির শ্রেণি পরিবর্তন ছাড়াই ড্রেজার সিন্ডিকেট প্রকাশ্যে দিনে-রাতে ফসলি জমি ভরাট করছে, আর এতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। ভয়ে কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
উপজেলা ভূমি অফিসের কাছেই ইছাপুরা ইউনিয়নের রাজদিয়া গ্রামে দিনে-রাতে দুটি ড্রেজার চালু রয়েছে। লতব্দী ইউনিয়নে নদী থেকে ড্রাম ড্রেজার ও বাল্কহেডের মাধ্যমে কৃষি জমি ভরাট করা হচ্ছে। একইভাবে মালখানগর, মধ্যপাড়া, কেয়াইনসহ উপজেলার সব ইউনিয়নেই চলছে একই চিত্র। এসব ড্রেজারের পাইপ ফসলি জমি ও সরকারি রাস্তার উপর দিয়ে টানা হয়েছে, যার ফলে একদিকে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে যানবাহন চলাচল।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা মিলে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরেই এই অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালালেও তা কেবল লোক দেখানো বলেই মনে করছেন এলাকাবাসী।
এসব ড্রেজারের মাধ্যমে জমি ভরাট করে একাধিক হাউজিং কোম্পানি—এসেন্ড, মাতৃভূমি ও স্বর্ণভূমির মতো—বিনা অনুমতিতে কৃষি জমিতে বসতবাড়ি ও আবাসিক প্রকল্প গড়ে তুলছে। তিন ফসলি জমিতে সাইনবোর্ড বসিয়ে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, অথচ এসব জমির শ্রেণি এখনো পরিবর্তন হয়নি। হাউজিং ব্যবসার নামে বছরের পর বছর ধরে চলছে প্রতারণা।
সিরাজদীখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস জানায়, ৯ মার্চ রশুনিয়া ও বাসাইল ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অবৈধ হাউজিং কোম্পানির সাইনবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। তবে মূল সমস্যাগুলো থেকে গেছে আগের মতোই।
সিরাজদীখান ইউএনও শাহিনা আক্তার জানান, অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্যের বিষয়টি প্রশাসন অবগত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়ে একাধিক ড্রেজারের পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে যেখানেই অবৈধ ড্রেজারের তথ্য পাওয়া যাবে, সেখানেই প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
দেশকাল নিউজ

Leave a Reply