মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮শত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশের টিম। একই সঙ্গে ইয়াবা পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে টংগীবাড়ী উপজেলার হাসাইল এলাকায় অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা শাখা বা ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাসাইল এলাকার মনির হালদারের বাড়ির সামনের পাকা সড়কে অভিযান পরিচালনা করে রাসেল আকন্দ ও লিটু খান নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত রাসেল আকন্দ মুন্সীগঞ্জের মূলচর এলাকার রাজ্জাক আকন্দের ছেলে এবং লিটু খান একই এলাকার প্রয়াত নুর মোহাম্মদ খানের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ১০টায় টংগীবাড়ী উপজেলার মূলচর এলাকায় দ্বিতীয় দফা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সজিব খানের মুদি দোকানের সামনের পাকা সড়ক থেকে মনির হোসেন নামে আরও এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা। গ্রেফতারকৃত মনির হোসেন নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মেঘা গ্রামের প্রয়াত ডা. শামসুদ্দিনের ছেলে। তিনি বর্তমানে রাজধানীর সাইনবোর্ড এলাকার পার্কভিউ অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযান চলাকালে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। পুলিশ আরও জানান, এ ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ জেলাজুড়ে মাদকের বিস্তার রোধে ডিবি পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বা বিশেষ অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী বা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে যেখানে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট গড়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। আটককৃত মাদক কারবারিরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবার মতো মরণনেশা সরবরাহ করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। পুলিশ এই চক্রের পেছনের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে।
এই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় মাদকের কুফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং যুবসমাজকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সাধারণ মানুষ।
ঢাকা টুডে / আরজে

Leave a Reply